আজ থেকে অনেক বছর আগের কথা।তখন আমি
গ্রামে থাকতাম।আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখা-
পড়া শেষ করে, ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য
আউশকান্দি র.প. উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা
অংশ গ্রহণ করি।ভর্তি পরীক্ষা সময় পরিচয় হয় এক
নতুন বন্ধুর সাথে।তার নাম নাইম।আমি ও নাইম
পাশা-পাশি বসে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করি।
পরীক্ষায় নাইম ৮ম ও আমি ৯ম স্থানে পাস করি।
তার পর ঐ বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। বিদ্যালয়ে ভর্তির
পর আস্তে-আস্তে আমাদের বন্ধুত্ব সংখ্যা বেড়ে
যায়।বন্ধুত্ব হয়েছিল বিল্লাল,রাজিব,রবিন্দ্র,সাজু
ও আর অনেকের সাথে।শুরু হয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে
আমাদের নতুন জীবন।বিদ্যালয় থেকে আমার
বাড়ির দুরত্ব ছিল প্রায় ৮-১০ কি.মি। প্রথম দিকে
আমি বাড়ি থেকে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-
যাওয়া করতাম।প্রায় কয়েক দিন পর আমি আমার
পরিবার ছেড়ে বিদ্যালয়ের পাশে একটি হোস্টেলে
উঠি।হোস্টেলটা ছিল বিদ্যালয়ের শিক্ষক সিদ্দিক
স্যারের অধীনে।হোস্টেল থেকে বিদ্যালয়ে আসা
যাওয়া করতাম।হোস্টেল উঠার পর সুমন ভাই,তারেক
ভাই ও তারেক ভাইয়ের ছোট ভাই (নামটা মনে
পড়ছে না) এর সাথে পরিচয় হই। প্রায় কয়েক মাস
পর আগস্ট মাসে আমি আমার পরিবার নিয়ে শহরে
আসি।শহরে এসে আগস্ট মাসে কাশীনাথ
আলাউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হই।তারপর
থেকে শুরু হয় আমার নতুন জীবন।প্রথম দিকে আমার
গ্রাম ও বিদ্যালয়ে কথা খুব বেশি মনে পড়ত ।
তারপর আস্তে আস্তে ব্যস্ত জীবন শুরু হয়।তবে
প্রায় সময় রাতে ঘুমানোর আগে আমার সব
অতীতের কথা মনে হয়।এখন খুব মিস করি ছোট
বেলা সময়টাকে।শহরে আসার পর প্রায় সময় চেষ্টা
করতাম ছোট বেলার সে স্কুলে যাওয়ার জন্য।
কিন্তু সময়ের অভাবে আর যেতে পারিনি।প্রায়
১২-১৩ বছর পর গতকাল
যাই বিদ্যালয়ের কাছে।
সেখানে গিয়ে সুমন ভাইয়ের নাম্বার সংগ্রহ করি।
তার পর দেখা হয় সুমন ভাই এর সাথে।সুমন ভাইয়ের
কাছে জানতে পারলাম হোস্টেলের তারেক ভাই
আমেরিকা চলে গেছেন।সুমন ভাইয়ের মাধ্যমে
স্কুল জীবনের বন্ধু বিল্লালে নাম্বার সংগ্রহ করি।
সুমন ভাইয়ের একটা কথা শুনার পর খুব খারাপ
লাগল।আমাদের বন্ধু রাজিবের কথা।রাজিব এখন
মানসিক রোগী। ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে থাকার সময়
রাজিবের বাড়িতে গিয়েছিলাম।রাজিবের কথা
শুনার পর আমি তাকে দেখতে তার বাড়ীতে যাই।
কিন্তু বাড়ীতে গিয়ে শুনি রাজিব একটু আগে বাড়ি
থেকে বেড়িয়ে গেছে।আর দেখা হল না রাজিবের
সাথে।তারপর রাজিবের বাড়ী থেকে বেড়িয়ে বন্ধু
বিল্লালকে কল করি।আমি মনে করেছিলাম
বিল্লাল আমাকে ভূলে গেছে। ভুলে যাওয়াটা
স্বাভাবিক ছিল।মাএ ছয়-সাত মাসের বন্ধু ১২-১৩
পর মনে থাকার কথা নয়।সবচেয়ে মজার বিষয়টা হল
বিল্লাল আমাকে সহজে চিনতে পেরেছে।
বিল্লালের কাছ থেকে জানতে পারলাম আমাদের
সব বন্ধুদের সাথে ওর যোগাযোগ রয়েছে।কথাটা
শুনার পর মনে অনেক শান্তি পেলাম।তারপর আমি
আমার বাসার উদ্দ্যশে রওনা হই।বাসায় আসার পর
রাজিবের কথা খুব মনে পড়ছে। সবার দয়া করবেন
মহান আল্লাহ যেন আমার বন্ধু রাজিবকে তাড়া-
তাড়ি সুস্থ করে তুলেন।
Thursday, April 7, 2016
অতীতের স্মৃতি খোঁজতে গিয়ে দুঃখের সংবাদ নিয়ে আসলাম...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment